

তসলিমা নাসরিনের জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে। ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় থেকে পাশ করে ১৯৯৩ সাল অবধি চিকিৎসক হিসেবে সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেছেন। চাকরি করলে লেখালেখি ছাড়তে হবে — সরকারি এই নির্দেশ পেয়ে তিনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আপসহীন নারীবাদী লেখিকা। লেখালেখির জন্য অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন আবার বিতর্কিতও হয়েছেন। নারীর অধিকারের কথা বলতে গিয়ে তিনি শুধু ধর্মীয় মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হননি, গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মৌলবাদীরা সারাদেশ জুড়ে তাঁর ফাঁসির জন্য আন্দোলন করে, এমনকি তাঁর মাথার মূল্য ঘোষণা করে। এর পরিণামে তিনি ১৯৯৪ সালে তাঁর প্রিয় স্বদেশ থেকে বিতাড়িত। দেশে এখনও ঝুলছে তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া, ঝুলছে বাক। স্বাধীনতা-বিরোধী লোকদের ঠুকে দেওয়া অনেকগুলো মামলা। ইউরোপে দীর্ঘকাল নির্বাসন জীবন কাটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বসবাস করছিলেন, কিন্তু সেই রাজ্য থেকেও তাঁকে বিতাড়ন করা হয়। বাঙালি এই লেখকের দু’বাংলার কোথাও ঠাঁই নেই।
মানবতার পক্ষে লেখা তাঁর তথ্যভিত্তিক উপন্যাস ‘লজ্জা’, নিজের শৈশব স্মৃতি নিয়ে লেখা ‘আমার মেয়েবেলা’, কৈশোর ও প্রথম যৌবনের স্মৃতি নিয়ে লেখা ‘উতল হাওয়া’, আত্মজীবনীর তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড ‘ক’ (দ্বিখণ্ডিত) এবং ‘সেই সব অন্ধকার’ বই পাঁচটি বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’। কলকাতা হাইকোর্ট দু’বছর পর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেয়।