Bhulur Ghugni ভুলুর ঘুগনি
Madhumay Pal মধুময় পাল
সংকলনের গল্পগুলি করোনা-লকডাউন থেকে “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” কালপর্বে লিখিত। এই তাৎপর্যময় সময়কালের হাঁটাচলা, গোপনবলা, স্লোগানতোলা ইত্যাদি কথারূপ পেয়েছে আখ্যানে। ট্রেনের ফেরিওয়ালা আকাশে মেলে ধরে আশ্রমের রুমাল, যার গায়ে মুদ্রিত হয় মেরুদণ্ডের মতো বিদ্যুৎরেখা। পেয়ালার সঙ্গে কথাবার্তায় ছড়িয়ে পড়ে দারুচিনির গন্ধ ও টাকা গোনার মেশিনের শব্দ। চুরি হয়ে যায় ব্রিজ এবং মস্ত একটা স্বপ্ন, যা মানুষের সুদিনের কথা ভেবেছিল। এক বালিকা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে হেঁটে গেলে ঋত্বিক ঘটক স্লোগান দেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। তবু এই সময়টা যেন ভুলুযুগ, যখন মেধা ও মননের নাম ভুলু, আর সৃজন হল ভুলুর ঘুগনি, যখন শূন্য পৃষ্ঠা বই হয় খণ্ডে খণ্ডে, মহাসমারোহে উদঘাটন হয় ভুলুর কর্তৃত্ব আর আমরা ‘ছোতো’ হয়ে যাই।
১৯৫২ সালে সাবেক পূর্ববঙ্গে জন্ম।
ভাষা আন্দোলনের বছর। সে বছর অন্তত দু-লাখ বাঙালি হিন্দু পূর্বের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হয়ে পশ্চিমে আসেন। মধুময়দের পরিবার সেই দুই লাখের কয়েকজন। প্রথম কুড়ি বছর কেটেছে কলকাতায় ক্যাম্পে, বস্তিতে। বাকিটা হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরে দীনহীন কলোনির ম্লানিমায়। লেখাপড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাপাখানার অক্ষরশ্রমিক থেকে কাগজ-কলমের অক্ষরকর্মী। মধুময়ের মৌলিক লেখা ও সম্পাদনা একসূত্রে গাঁথা, যেখানে এক দেশভিখারি দেশ খুঁজতে খুঁজতে কেবলই শিকড়ের দিকে হাঁটে।







