আমরা ছোটোবেলা থেকে যে-দু’টি বইয়ের কথা শুনে, পড়ে ও জেনে এসেছি, সেগুলো হল রামায়ণ ও মহাভারত; আর গীতা হল মহাভারতের এক অংশ। যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মীয়পরিজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হবে দেখে বিমর্ষ হয়ে পড়া অর্জুনকে উদ্বুদ্ধ করে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করাবার জন্য যে-উপদেশ ও নীতিকথা শ্রীকৃষ্ণ তাকে শুনিয়েছিলেন, তার-ই সংকলনকে ‘গীতা’ বলে আমরা জানি।
এই গীতাও একটি বহু চর্চিত গ্রন্থ। যদিও রামায়ণ ও মহাভারতের মতো এত পাঠক গীতার না-থাকলেও শোনা কথায় গীতা-চর্চা চলে ভারত জুড়ে এবং সেটি হয়তো একটু বেশিই। এ-বঙ্গেও এখানে-সেখানে বহু ‘গীতাচক্র’ দেখতে পাওয়া যায় যেখানে নানা বিশেষজ্ঞ নিজের মতো করে এর ব্যাখ্যা দেন। গীতার ‘নিষ্কাম কর্ম’ নিয়েও কথায় কথায় উদাহরণ তোলা হয়। যদিও তা নিয়ে বিভ্রান্তি কিছু কম হয় না। কর্মের ফল দাবি না- করলে পুণ্যের ভাগ বৃদ্ধি পেতে পারে কিন্তু শরীরের পুষ্টি সাধন হয় না, তেমনি কর্ম না-করেও অনেকে ফল প্রাপ্ত হন- এটাও সত্যি। সেক্ষেত্রে সেই ‘ফল’ পাপের বোঝা বাড়ায় কি-না, তা-ও বিচার্যের বিষয়।
এই বইতে লেখকও গীতায় মগ্ন হয়ে গীতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজের বোধ অনুসারে। কেউ মানবেন, কেউ মানবেন না। তবে গীতার মতো একটি বহুল চর্চিত ও আচরিত, যাকে কেবল বই না-বলে দর্শনই বলা উচিৎ, গ্রন্থ সম্পর্কে নতুনতর একটি মতকে পাঠকদের পড়ে দেখা উচিৎ বলে মনে করি। আর সহজ পদ্ধতিতে আপামর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বইয়ের কোনও জুড়ি নেই।







