A Bengali book on Henry Louis Vivian Derozio written by an eminent Renaissance scholar Dr. Sakti Sadhan Mukhopadhyay.
গোটা উনিশ শতক জুড়ে রামমোহন, ডিরোজিও, বিদ্যাসাগর বা মধুসূদনদের বিপ্রতীপে রাজা রাধাকান্ত দেবের বলয়ে বহু বিদ্যারত্ন, বিদ্যালঙ্কার, বেদান্ততীর্থ, তর্করত্ন বা তর্কপঞ্চাননদের সমাবেশ ঘটেছিল যা, পূর্বোক্তদের প্রগতি ধারার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে তাঁদের পথকে রূদ্ধ করতে চেয়েছিল এবং তার ফলস্বরূপ জনমানসে তাঁদের নিয়ে ভালো-মন্দ ‘অতিকথন’-এর জন্ম দিয়েছিল।
এর ফলে আজকের আলোচ্য ডিরোজিওকে নিয়েও এত বছর বাদেও পৃথিবীর বোধহয় সবচাইতে মান্য সামজিক ‘জ্ঞানাধার’ উইকিপিডিয়াতেও একটি অপ্রমাণিত অতিকথন আমরা দেখতে পাই; যেমন- খ্রিস্টধর্মের সার-অসার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ডিরোজিও সাহেবেরও মৃত্যুর পরে পার্ক স্ট্রিট কবরখানার মূল ময়দানে স্থান হয়নি, হয়েছিল বাইরে। আর এই ভুল ভাঙাতেই দরকার হয়েছে শক্তিসাধনের মতো যুক্তিবাদী গবেষকের। আর তাতে আস্থাশীল হয়ে সেই কবরে শুয়ে আজ ডিরোজিও বোধহয় এক মুক্তমনা যুক্তিবাদী সমাজ দেখার আশায় দিন গুনবেন!
১৯৫১ সালে মামার বাড়ি পাঁচড়ায় জন্ম। গ্রাম- জুতিহাটি, কেওটাড়া, পূর্ব বর্ধমান। পড়াশুনা – ঝাপানডাঙা পরেশনাথ বিদ্যামন্দির, পাঁচড়া সাগরচন্দ্র রক্ষিত। স্মৃতি বিদ্যামন্দির, বর্ধমান রাজ কলেজ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। হোমিওপ্যাথি ডিসপেনসারিতে কম্পাউন্ডারি দিয়ে কর্মজীবন শুরু। চাকরি করতে করতেই এম. এ. পড়া। বাংলা সাহিত্যে অধ্যাপনা – জঙ্গিপুর কলেজ ও খিদিরপুর কলেজ। ইউ. জি. সি. টিচার-ফেলোশীপ পেয়ে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেনেসাঁস নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি. ডিগ্রি লাভ। গ্রামে ‘ঝাপানডাঙা সাধারণ পাঠাগার’-এর আদি পরিকল্পক ও সংগঠক। অধ্যাপনা থেকে অবসর গ্রহণের পর ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে’ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন (২০১২-২০১৬) রেনেসাঁস, ডিরোজিও ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ৩৫ টির বেশি গবেষণামূলক গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক।
তাঁর প্রথম গ্রন্থ ইতালীয় রেনেসাঁসের আলোকে বাংলার রেনেসাঁস (২০০০), সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থ ‘রেনেসাঁসের আলোকে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও’ (২০২৪), ‘ডিরোজিও বৃক্ষ’ (২০২৫)। বর্তমানে এবং জলঘড়ি পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য।







