সবাই ছুটে চলেছেন। কেউ কানে চলভাষের তার গুজে, কেউ পথচারীদের ধাক্কা দিয়ে বা খেয়ে। কেউ দেড়শ কিলোমিটার গতিতে নতুন তৈরি শাহী সড়কের মাঝখান দিয়ে। কেউ আবার এক বিমান ছেড়ে আর এক বিমানে ওঠার জন্য দৌড়ে যাচ্ছেন, টিউব ট্রেন বুলেট ট্রেন অসংখ্য গতিময় শকটের বিরামহীন তৎপরতায় আমাদের জীবন যেন পেছন ফিরে তাকাতে ভুলে গেছে। এই গতিময় একবিংশ শতাব্দীর আন্তঃগ্রহ যোগাযোগের তৎপরতার মধ্যেই একটু ব্যতিক্রমী ঘরানার আটপৌরে গদ্যে লেখক আমাদের গতশতকের মাঝামাঝি সময়ের গল্প শুনিয়েছেন। এখনকার প্রজন্ম হয়তো গল্প শুনেছে, কীভাবে কয়লার ইঞ্জিন কুউ ঝিক ঝিক শব্দ করে ছুটে যেতো তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে। কীভাবেই বা জেলা শহরের রাস্তায় রিক্সার চাকা আটকে যেতো কাদায়। যৌথ পরিবারের ভাই বোন, কাকা পিসি, মামা দাদু, সব মিলিয়ে এক আশ্চর্য হাসি কান্নার আনন্দের পরিবেশ এখন আর নেই। তখন ছিলো। ছিলো আম গাছের ছায়ায় বসে ওপর থেকে পড়া মিষ্টি আমের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার স্মৃতি। বইয়ের আলমারি থেকে পুরানো বই নিয়ে পাতা ওল্টানো বা মায়ের মুখে বিখ্যাত কোনো বইয়ের পাঠ শুনতে শুনতে তন্ময় হয়ে যাওয়া। আরো কতো ভালোলাগার স্মৃতি, মাসীর বাড়ির স্মৃতি, দাদুর বাড়ির স্মৃতি। বড্ড আদরের সেই সব বাড়িঘর, মাঠঘাট, খালবিল, পাখপাখালির স্মৃতির কিছু টুকরো যদি এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা দ্রুতি থেকেও পায়, তবে তাঁরা ভাগ্যবান বলে মনে করি।







