একটি বিলুপ্ত গ্রন্থাগার — আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি
শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়
একদা আলেকজান্ডার অধিকৃত মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে স্থাপিত হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান-গৃহ, যাকে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নামে লোকে চেনে। গ্রিসের বাইরে বিভিন্ন গ্রিক উপনিবেশিত শহরে যে হেল্লেনিস্টিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে তারই একটি প্রস্ফুটিত রূপ এই লাইব্রেরি। টলেমি রাজবংশ ছিলেন এর রূপকার। সেই ঐতিহাসিক গ্রন্থগৃহটির কোনো চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই। বিলুপ্ত সেই লাইব্রেরিকে নিয়ে এই বই।
এই সেদিন ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর সেই শহরে ‘বিবলিওথিকা আলেকজান্দ্রিয়া’ নামে একটি চোখধাঁধানো আধুনিক গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়েছে। তার প্রবেশপথে বিলুপ্ত আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির খ্যাতনামা গ্রন্থাগারিক ডেমেট্রিয়াস-এর (৩৪০ খ্রি.পূ.-২৮০ খ্রি.পূ.) একটি শ্বেতশুভ্র মূর্তি স্থাপিত হয়েছে মাত্র। বাকি সবটাই একেলে। কি করে খ্রি.পূ. কালে এরকম একটা জ্ঞান-গৃহ গড়ে উঠেছিল, কেন ঐ জায়গাতেই স্থাপিত হয়েছিল সেটি, কারা ছিলেন তার রূপকার, কারা আসতেন সেখানে, কারা ছিলেন সেই জ্ঞানচর্চার অংশীদার, কেনই বা সেটি লুপ্ত হয়ে গেল সেইসব কাহিনি ও তার সত্যমিথ্যা বিচারমূলক তথ্য ও চিত্র দিয়ে সাজানো একটি বই একটি বিলুপ্ত গ্রন্থাগার আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি।
এমন বই বাংলায় এই প্রথম। গ্রন্থপ্রেমী ও গ্রন্থাগারপ্রেমীদের জন্য সযত্নে লেখা ও সাজানো।
১৯৫১ সালে মামার বাড়ি পাঁচড়ায় জন্ম। গ্রাম- জুতিহাটি, কেওটাড়া, পূর্ব বর্ধমান। পড়াশুনা – ঝাপানডাঙা পরেশনাথ বিদ্যামন্দির, পাঁচড়া সাগরচন্দ্র রক্ষিত। স্মৃতি বিদ্যামন্দির, বর্ধমান রাজ কলেজ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। হোমিওপ্যাথি ডিসপেনসারিতে কম্পাউন্ডারি দিয়ে কর্মজীবন শুরু। চাকরি করতে করতেই এম. এ. পড়া। বাংলা সাহিত্যে অধ্যাপনা – জঙ্গিপুর কলেজ ও খিদিরপুর কলেজ। ইউ. জি. সি. টিচার-ফেলোশীপ পেয়ে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেনেসাঁস নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি. ডিগ্রি লাভ। গ্রামে ‘ঝাপানডাঙা সাধারণ পাঠাগার’-এর আদি পরিকল্পক ও সংগঠক। অধ্যাপনা থেকে অবসর গ্রহণের পর ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে’ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন (২০১২-২০১৬) রেনেসাঁস, ডিরোজিও ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ৩৫ টির বেশি গবেষণামূলক গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক।
তাঁর প্রথম গ্রন্থ ইতালীয় রেনেসাঁসের আলোকে বাংলার রেনেসাঁস (২০০০), সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থ ‘রেনেসাঁসের আলোকে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও’ (২০২৪), ‘ডিরোজিও বৃক্ষ’ (২০২৫)। বর্তমানে এবং জলঘড়ি পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য।







